Tuesday, January 4, 2011

প্রজাপতির অভয়ারণ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রজাপতির অভয়ারণ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার, ১৮ অক্টোবর ২০১০
গাছপালায় ঘেরা দেশের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর ভার্সিটিতে আগামী মাসের শেষদিকে ‘প্রজাপতি মেলা’ আয়োজন করা হবে। পরাগায়ন-সহায়ক এ দৃষ্টিনন্দন প্রজাতির বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘প্রজাপতি ঘর’ তৈরির মাধ্যমে পতঙ্গটির বংশবৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় প্রকৃতির অলঙ্কার হিসেবে পরিচিত প্রজাপতির সংখ্যা দিন দিন কমছে। পরাগায়নে যাতে সমস্যা না হয়, সেই লক্ষ্যে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাদে ও এর সামনের বাগানে পরিকল্পিভাবে তৈরি করা হয়েছে ‘প্রজাপতি ঘর’। এখানে কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে অবমুক্ত করা হচ্ছে প্রজাপতি। তাই সবুজ নিসর্গে ভরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগানগুলোতে দৃষ্টিনন্দন প্রজাপতির দুরন্ত ওড়াউড়ি চোখে পড়ে।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগেরই সহযোগী অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন ১৪ বছর ধরে নিরলসভাবে প্রজাপতি নিয়ে গবেষণা করছেন। ১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথম এ গবেষণার কাজ শুরু হয় বলে জানান তিনি। প্রজাপতির একটি খামার গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে তার।
অধ্যাপক মনোয়ার বলেন, বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখার অধীনে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে প্লেইন টাইগার প্রজাতির প্রায় তিনশ’ প্রজাপতি সম্প্রতি ক্যাম্পাসে অবমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি এক তথ্যে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শফিক হায়দার চৌধুরীর সঙ্গে যৌথভাবে ও তার একক গবেষণায় এ পর্যন্ত প্রজাপতির মোট ১০২টি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে।
অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রজাপতির প্রায় ২০০টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্লেইন টাইগার, কমন ক্রো, প্লাম জুডি, ডিঙ্গি বুশব্রাউন, কমন ডাফার, এপফ্লাই, পি ব্লু, টাইনি গ্রাস ব্লু, ওক ব্লু, কমন সেইলর, কমন রোজ, ব্লু মরমন, স্ট্রাইপড অ্যালবাট্রস, মটিলড ইমিগ্রান্ট, কমন গ্রাস ইয়েলো, স্ট্রাইপড পাইরট, মানকি পাজল, ব্লু প্যানসি ও পেইন্টেড লেডি।
তিনি জানান, এসবের মধ্যে স্ট্রাইপড পাইরট, মানকি পাজল, ব্লু প্যানসি ও পেইন্টেড লেডি নামের চারটি প্রজাতি অতিসম্প্রতি শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে জাবি ক্যাম্পাসে প্রজাপতির নতুন নতুন প্রজাতির সন্ধান মিললেও দেশে প্রজাপতির সংখ্যা দিন দিন কমছে। বনভূমি কমে যাওয়ায় প্রকৃতির অপরূপ অলঙ্কার এই প্রজাপতিকুলের অস্তিত্বও এখন হুমকির মুখে।
বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে প্রজাপতির একটি খামার গড়ে তোলার আশাবাদ জানিয়ে এই গবেষক বলেন, প্রজাপতির প্রধান কাজ পরাগায়নে সহায়তা করা। এর মাধ্যমেই উদ্ভিদ বংশবিস্তারে সক্ষম হয়।
প্রজাপতি সংরক্ষণে এখনই উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়ে অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে প্রজাপতির সবক’টি প্রজাতির তালিকা তৈরির পাশাপাশি এদের সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা উচিত।
প্রজাপতির নান্দনিক ও বাণিজ্যিক ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রজাপতি আমদানি ও রফতানি করে প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা সম্ভব। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড প্রজাপতি রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা গবেষণার পর জানিয়েছেন, সোলার প্ল্যান্টে প্রজাপতির পাখার স্কেল ব্যবহার করে দশ গুণ বেশি সৌরবিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব। বাংলাদেশও এ প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারে বলে জানান তিনি।
পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাপতির ভূমিকা তুলে ধরে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘প্রজাপতি মেলা’ করা হবে বলেও জানান অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন।
প্রজাপতি প্রতিপালন ও এর নিরাপদ বংশবৃদ্ধির জন্য প্রাণিবিদ্যা বিভাগের দুটি ‘প্রজাপতি ঘর’ তৈরির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে কৃত্রিম উপায়ে প্রজাপতির খাবারসহ (পর্যাপ্ত ফুল ও গাছ) অনুকূল পরিবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, এখানে প্রজাপতির কৃত্রিম উপায়ে বংশবৃদ্ধি ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গতা প্রাপ্তির পর উন্মুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেয়া হয়। এতে প্রজাপতিকুল রক্ষায় সামান্য হলেও অবদান রাখা হচ্ছে।
Source: Daily Amardesh

প্রেসক্লাবে রঙিন প্রজাপতির ওড়াউড়ি

প্রেসক্লাবে রঙিন প্রজাপতির ওড়াউড়ি

জিয়াউদ্দিন সাইমুম, ২২ নভেম্বর ২০১০
নিত্যদিনের নাগরিক কোলাহলের ভিড়ে হঠাত্ রঙিন ডানার প্রজাপতির দুরন্ত ওড়াউড়ি দেখলে সবার মন জুড়ায়। আর হেমন্তের এই মিঠে-কড়া দিনে রাজধানীর ব্যস্ততম তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সবুজ চত্বরে এখন প্রকৃতির এই অনবদ্য সৃষ্টির যেন বাহারি মেলা বসেছে। সাংবাদিকদের ‘সেকেন্ড হোম’ নামে পরিচিত এই ক্লাবের বাগানের ফুলে ফুলে নানা রংয়ের প্রজাপতির ভিড় এটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে, শীতের শুরুতে দিবাচর এই প্রাণীটির প্রজননের সময় এসে গেছে। প্রকৃতির অলঙ্কার এই ক্ষুদে পতঙ্গটির রঙিন ডানা মানুষকে যুগে যুগে কাছে টেনেছে। এটির বাহারি উড়ে চলা দেখে কবি চার্লস ডিকেন্স বড় আফসোস করে বলেছিলেন, ‘আমি স্বাধীন হতে চাই। আর প্রজাপতি জন্ম থেকেই স্বাধীন।’ অথচ খুব বেশি দিন বাঁচে না এ পতঙ্গ। প্রজাতিভেদে এর আয়ু পাঁচদিন থেকে ১০ মাস। দুটি অ্যান্টেনা, দুটি জটিল চোখ আর একটি নলাকার মুখ নিয়েই এদের অনিশ্চিত পথচলা।
বাংলাপিডিয়া মতে, আমাদের দেশে ১২৪ প্রজাতির প্রজাপতি শনাক্ত হয়েছে। এরা ঘণ্টায় ১২ মাইল থেকে ২৫ মাইল বেগে উড়তে পারে। বেশি শীতে এরা টিকতে পারে না বলে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে প্রজাপতি নেই। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন, প্রজাপতি ঘুমায় না। বিশ্রাম নেয় মাত্র। এরা কিছু পাখির মতো পরিযায়ীও বটে।
তবে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রজাপতির প্রায় ২০০টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্লেইন টাইগার, কমন ক্রো, প্লাম জুডি, ডিঙ্গি বুশব্রাউন, কমন ডাফার, এপফ্লাই, পি ব্লু, টাইনি গ্রাস ব্লু, ওক ব্লু, কমন সেইলর, কমন রোজ, ব্লু মরমন, স্ট্রাইপড অ্যালব্যাট্রস, মটিলড ইমিগ্রান্ট, কমন গ্রাস ইয়েলো, স্ট্রাইপড পাইরট, মাংকি পাজল, ব্লু প্যানসি ও পেইন্টেড লেডি।
তিনি জানান, এসবের মধ্যে স্ট্রাইপড পাইরট, মাংকি পাজল, ব্লু প্যানসি ও পেইন্টেড লেডি নামের চারটি প্রজাতি অতি সম্প্রতি শনাক্ত করা হয়েছে।
দিবাচর এ পতঙ্গটি সাধারণত মধু খেয়ে বাঁচে। তবে খাদ্য তালিকায় রয়েছে ফুলের রেণু, গাছের রস, পচা ফল, গোবর, পচনশীল মাংস, বালু অথবা ময়লায় দ্রবীভূত অবস্থায় থাকা খনিজ পদার্থ। পরিবেশ রক্ষায় এ পতঙ্গটির অবদান রয়েছে। এরা ফুলের পরাগায়ণে ভূমিকা রাখে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে প্রজাপতির আলোক সংবেদী রঙিন পাখা নিয়েই প্রকৃতিপ্রেমীরা মেতে থাকেন।
সম্ভবত এ কারণে বলা হয়ে থাকে প্রজাপতি মানেই লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, সোনালি, বেগুনিসহ বহু বর্ণের নয়নাভিরাম ছটা— যার সৌন্দর্য শিল্পীর সৃষ্টিকেও নাকি হার মানায়। আর জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে মানবিক এ অনুভূতিটি এখন নতুন গতি পাচ্ছে।
এটা ঠিক যে, প্রকৃতির দৃষ্টিনন্দন প্রাণী প্রজাপতির সৌন্দর্য আর পাখার বর্ণিল রংয়ের বাহার মানুষকে মুগ্ধ করা ছাড়াও পরিবেশের জীববৈচিত্র্যে ভারসাম্য রাখতে সহায়তা দেয়। আবার প্রাকৃতিক জৈবসম্পদ সংরক্ষণেও এটির গুরুত্ব রয়েছে। অথচ এই সুন্দর প্রাণীটির অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। অনুকূল পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশে আশঙ্কাজনক হারে কমে আসছে এর সংখ্যা, বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় সংকুচিত হচ্ছে এর বিচরণ ক্ষেত্র।
পৃথিবীর অনেক দেশেই বর্তমানে প্রজাপতি পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। সেসব পার্কে প্রজাপতির জীবনযাত্রার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে জীবন্ত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে অসংখ্য প্রজাতির প্রজাপতি। জাতীয় প্রেস ক্লাব এ জাতীয় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না নিলেও নাগরিক যন্ত্রণার ভিড়ে ক্লাবটির সবুজ চত্বরে প্রজাপতির দুরন্ত ওড়াউড়ি কলমজীবীদের মনে ক্ষণিকের জন্য হলেও প্রশান্তি এনে দিচ্ছে। নানা কারণে প্রেস ক্লাবে আসা দর্শনার্থীরাও প্রজাপতির বাহারি পাখা থেকে চোখ ফেরাতে পারছেন না।
প্রজাপতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ পুরো বিশ্ব। পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ এখন রীতিমতো প্রজাপতি রফতানি করছে। তবে জাতীয় প্রেস ক্লাবে রঙিন পাখার নজরকাড়া ওড়াউড়ি এটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রজাপতি নিয়ে ভাবার সময় এসে গেছে।
Source: Daily Amardesh

প্রজাপতির ডানা থেকে বিদ্যুত্

প্রজাপতির ডানা থেকে বিদ্যুত্

জিয়াউদ্দিন সাইমুম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১০
স্বপ্নে প্রজাপতির প্রসঙ্গ টেনে চীনের মাওবাদী দার্শনিক চুয়াং জু বিশ্বে এক জটিল প্যারাডক্সের জন্ম দিয়ে গেছেন। স্বপ্নে তিনি একটি প্রজাপতি দেখেন, যার মাঝে নেই ব্যক্তি চুয়াং জু’র অস্তিত্বের অনুভূতি। তিনি জেগেই প্রশ্ন করলেন, ‘আমি কি সেই চুয়াং জু, যিনি প্রজাপতি হবার স্বপ্ন দেখার আগে চুয়াং জু ছিলাম নাকি এখন আমি সেই প্রজাপতি, যে প্রজাপতি চুয়াং জু হবার স্বপ্ন দেখছে?’
সেই প্রজাপতি এখন চীনা বিজ্ঞানীদের কাছে গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে। কারণ, পতঙ্গটির ডানার নিচে সোলার কালেক্টরের অস্তিত্ব বিজ্ঞানীরা আগেই পেয়েছেন। আর সম্প্রতি চীনা বিজ্ঞানীরা প্রজাপতির পাখার বর্ণিল আলোকচ্ছটা আর ফিনফিনে ডানার গাঠনিক কাঠামো গবেষণার পর বলছেন, আগামী দিনগুলোতে প্রজাপতির ডানার এ অনন্য যান্ত্রিক কৌশল অতি সস্তা ও অধিকতর কার্যকর সোলার সেল উদ্ভাবনে সহায়তা দেবে।
ফটোভল্টিয়াক ইফেক্টকে কাজে লাগিয়ে সোলার সেলের মাধ্যমে বিদ্যুত্ উত্পাদন বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রজাপতির ডানার তাপমাত্রা, গাঠনিক কৌশল, লাইট কালেক্টর নিয়ে গবেষণার পর চীনা বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন, টিটানিয়াম ডাইঅক্সাইড ছড়ানো আলোক সংবেদী সোলার সেল ফটোয়ানেড নামে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্ম দেয়, যা আলোক রশ্মি থেকে সহজেই ফোটন শুষে নিয়ে সেল থেকে ইলেকট্রন ত্যাগে সহায়তা করে। (সূত্র : নিউসায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন)।
চীনা গবেষকরা প্রজাপতির ডানাকে টিটানিয়াম মেশানো দ্রবণে মেশান। এরপর তারা প্রজাপতির পাখা থেকে টিটানিয়াম ডাইঅক্সাইডের একটি অবশেষ বা তলানি বের করে আনেন। এ তলানির সাহায্যে তারা ফটোয়ানেড তৈরি এবং তা সোলার সেলে ব্যবহারের পর দেখতে পান, সেলের কার্যকারিতা স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে ১০ গুণ বেড়ে গেছে।
সাংহাই জিয়াও তঙ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ডাই ঝাং সোলার সেলের কার্যকারিতা বাড়ানোর কৌশল সম্পর্কে বলেন, ‘প্যারিস পিকক’ নামের প্রজাপতির আলো-শোষক ডানার বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রযৌক্তিক প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো গেলে অতিসস্তায় অথচ অধিকতর কার্যকর পন্থায় সোলার সেল উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে।
ওয়েবসাইট থেকে আরও জানা যায়, চীনাদের পাশাপাশি জাপানি বিজ্ঞানীরাও একই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করছেন। তাদের এ গবেষণার জাগতিক সাফল্য অধিকতর বাস্তব হয়ে গেলে বিশ্বে সোলার সেলের প্রসার যেমন বেড়ে যাবে, তেমনি বিশ্বে বিদ্যুত্ সমস্যার একটা সমাধান পাওয়া যাবে বলে গবেষকরা আশা করছেন।
বর্তমানে সৌরবিদ্যুত্ প্ল্যান্টগুলোতে আলোকসংবেদী রং ব্যবহৃত হয়। মাইকেল গ্রাটজেলের নামানুসারে এসব সেল ‘গ্রাটজেল সেল’ নামেও পরিচিত। ল্যাবরেটরি টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে, সোলার সেলে ব্যবহৃত আলোকসংবেদী রং-এর চেয়ে প্রজাপতির ডানার সোলার কালেক্টর অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে আলো শুষে নিতে পারে।
চীনা বিজ্ঞানীরা বলেছেন, প্রজাপতির ডানায় থাকা সোলার কালেক্টর বানানো খুব জটিল নয়। আর এ কাজে সফলতা এলে সোলার সেলের বাণিজ্যিক ব্যবহার বহুগুণে বেড়ে যাবে।
একই গবেষণার ফল নিয়ে ‘ক্যামেস্ট্রি অব ম্যাটেরিয়ালস’ নামের অন্য একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে চীনা গবষেকদের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখা হয়েছে—‘প্রজাপতির পাখার গাঠনিক কাঠামো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা এমন একটি কার্যকর ফটোয়ানোড উদ্ভাবন করেছি, যা সোলার সেলে প্রথাগত আলোক সংবেদী রঙের পরিবর্তে ব্যবহার করা যাবে।’
বলা যায়, বর্ণিল ডানা ছড়িয়ে মনের আনন্দে বাতাসে ভেসে চলা অথবা ফুলের কোমল পাপড়িতে মোহনীয় ভঙ্গিতে বসে থাকা প্রজাপতি আগামীতে সবার নজর কাড়বে আরও বেশি করে। কারণ, এ পতঙ্গ শুধু অধিকতর কার্যকর সোলার সেল উদ্ভাবনেই সহায়তা দেবে না, এটা জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে পারবে।
হাতেগোনা কয়েক প্রজাতির প্রজাপতি ফসলের ক্ষতি করলেও ২৪ হাজার প্রজাতির বাকিগুলো নির্দোষ। ভিজুয়াল আর্ট ও শিল্পকর্মে ‘উড়ন্ত ফুল’ নামে পরিচিত এ পতঙ্গটি এ কারণে বেশ জীবন্ত। সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মিসরের হায়ারোগ্লিফিক স্ক্রিপ্টে প্রজাপতির অঙ্কন দেখে এটা বোঝা যায়, এ পতঙ্গটি সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। বর্তমানে এটা শিল্পকলা ও অলঙ্কারের ডিজাইন তৈরির জনপ্রিয় মটিফ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এয়ারক্রাফট ও ঘুড়ি তৈরির ডিজাইন নির্মাণে বিজ্ঞানীরা এখন প্রজাপতির পাখার যান্ত্রিক কৌশল নিয়ে বেশ গবেষণায় মেতেছেন। ন্যানোপ্রযুক্তিবিদদের কাছেও এটার বাহারি পাখা গবেষণার বিষয়।
প্রজাপতির বাহারি উড়ে চলা দেখে চার্লস ডিকেন্স বড় আফসোস করে বলেছিলেন, ‘আমি স্বাধীন হতে চাই। আর প্রজাপতি জন্ম থেকেই স্বাধীন।’ অথচ খুব বেশি দিন বাঁচে না প্রজাপতি। প্রজাতিভেদে এটার আয়ু ৫ দিন থেকে ১০ মাস। দুটো এন্টেনা, দুটি জটিল চোখ আর একটি সুরযুক্ত মুখ নিয়েই এদের অনিশ্চিত পথচলা। বাংলাপিডিয়া মতে, আমাদের দেশে ১২৪ প্রজাতির প্রজাপতি শনাক্ত হয়েছে। এটা ঘণ্টায় ১২ মাইল থেকে ২৫ মাইল বেগে উড়তে পারে। বেশি শীতে এরা টিকতে পারে না বলে এন্টার্কটিকা মহাদেশে প্রজাপতি নেই। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এরা ঘুমায় না। বিশ্রাম নেয় মাত্র। এটা কিছু পাখির মতো পরিযায়ী।
দিবাচর এ পতঙ্গটি সাধারণত মধু খেয়ে বাঁচে। তবে এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে ফুলের রেণু, গাছের রস, পচা ফল, গোবর, পচনশীল মাংস, বালি অথবা ময়লায় দ্রবীভূত অবস্থায় থাকা খনিজ পদার্থ। পরিবেশ রক্ষায় এ পতঙ্গটির অবদান রয়েছে। এটা ফুলের পরাগায়নে ভূমিকা রাখে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে প্রজাপতির আলোক সংবেদী রঙিন পাখা নিয়েই বিজ্ঞানীরা মেতে আছেন।
Source: Daily Amardesh

প্রজাপতি ডলার আনে

প্রজাপতি ডলার আনে
আলতাফ হোসেন লাভলু

প্রজাপতি পাখায় পাখায় এ কোন মায়ার রং ছড়ায়। বোধ করি কবিরা ফল ও পাখির পরই প্রজাপতিকে নিয়ে বেশি চর্চা করেছেন। অবশ্য প্রজাপতির সৌন্দর্যই এর মূল কারণ। এ উপমহাদেশে প্রজাপতির আধিক্য রয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের অভিমত। বিশেষ করে প্রাকৃতিক কারণে নেপালে পোকামাকড় সেই সঙ্গে প্রজাপতিরও জন্মের হার বেশি। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে এ সুন্দর দেশটিতে মোট ৬০০ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে। কাঠমু-ুর বিভিন্ন উপত্যকায় উড়ে বেড়ানো হাজার হাজার প্রজাপতিই বিশ্বের পর্যটকদের টেনে আনে এখানে। গোদাবরী, ফুলচকী ও নার্গাজন উপত্যকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সেই সঙ্গে চিকচিকে রোদেলা বিকেলে রঙবেরঙের প্রজাপতি এ দেশটিকে বছরে প্রচুর পরিমাণে ডলার অর্জনের সুযোগ করে দেয়। তবে দুঃখের বিষয় এসব নিরীহ সুন্দর প্রাণীরাও শিকারি মানুষের পাল্লায় পড়ে বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও এদেশে ব্যবসায়িকভাবে প্রজাপতি ধরা নিষিদ্ধ। প্রজাপতি কি খায়? আসলে প্রজাপতির জীবনে চারটি ভাগ। প্রথম হলো ডিম। দ্বিতীয় শুঁয়োপোকা। তৃতীয় গুটিপোকা। এই অবস্থায় সারা শীতকাল ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। চতুর্থ অবস্থা হলো সুন্দর প্রজাপতি। দ্বিতীয়ত শুয়োপোকা থাকা অবস্থায় যতটা পারে খেয়ে নেয়। অনেক প্রজাপতি আছে যারা শুধু এই একবারই খেয়ে থাকে শুঁয়োপোকা থাকা অবস্থায়। খেতে খেতে ফুলে ফেঁপে ওঠে। বাইরের চামড়াটা ফেটে গিয়ে নতুন প্রজাপতি বেরিয়ে পড়ে। এই ফাটার কাজ বার বার হতে পারে। ফলে ডিম্বাবস্থায় যে আকার থাকে, তার চেয়ে অনেকগুণ বড় হয়ে যায়। প্রজাপতির শরীরে তিনিটি প্রধান অংশ থাকে মাথা, বুক ও পেট, যেসব প্রজাপতি খালি খেয়েই খাকে, তাদের মুখের বদলে একটা পাইপ থাকে। যখন ব্যবহার হয় না তখন গাড়ির স্প্রিংয়ের মতো এই পাইপটা পাকানো থাকে। ফুলে মধু চুষে খাবার জন্য এই নলকে বেশ কিছুদূর পর্যন্ত পাঠিয়ে দিতে পারে। মথ জাতীয় প্রজাপতিদের পাইপ ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। কারুর ওপর করাতের মতো পাইপ হয়। ফলটাকে ফেটে তার ভেতরে থেকে চুষে নেয়। এই পাইপটাকে বলা হয় অ্যানটেনা। এই অ্যানটেনার সাহায্যে প্রজাপতিরা তিনটা কাজ করে- অনুভব, গন্ধ শোকে, এবং শ্রবণ করে। পৃথিবীর নানা দেশে বর্ণালী ও বিচিত্র রঙের আকর্ষণীয় প্রজাপতি বাস করে। নানা প্রজাপতির এ প্রজাপতি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি আকর্ষণীয়। তাই পর্যটকদের করে আকর্ষণ। জাপানির এক নাগরিক প্রজাপতি চুরি করতে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কার অভয়ারণ্যে। প্রহরীর চোখ এড়িয়ে যখন ৩২টি প্রজাপতি নিয়ে পালাচ্ছিলেন তখন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়ে। আদালতে তাকে চালান দেওয়ার পর যতœপুর শহরের ম্যাজিস্ট্রেট অজ্ঞাতনামা ও জাপানিকে দু’সপ্তাহে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। সন্ধান পাওয়া তথ্যমতে অসংখ্য প্রজাপতির মধ্যে সবচেয়ে বড় আকৃতির প্রজাপতির নাম ‘ট্রয়েডস ভিক্টোরিয়া’। এ প্রজাপতির পুরুষদের অতিকায় দু’ডানার মাপ ১২ ইঞ্চিরও বেশি। আর ওজন ৫ গ্রামেরও বেশি। এটি পাওয়া গেছে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সলোমান দ্বীপপুঞ্জে।

মেক্সিকো: মনার্ক নামের প্রজাপতির আমেরিকার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাত্রা

মেক্সিকো: মনার্ক নামের প্রজাপতির আমেরিকার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাত্রা

দেশ : মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা
বিষয় : পরিবেশ, ভ্রমণ
লিখেছেন: Andrea Arzaba
অনুবাদ করেছেন : বিজয়


মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাংশ এবং কানাডায় এক বিচিত্র ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, যার মধ্য দিয়ে কেউ এক একজন ভাবতে পারে যে প্রকৃতি কতটা বিস্ময়কর হতে পারে। এই অবিশ্বাস্য কাজটি করে মনার্ক (রাজকীয়) নামের এক প্রজাপতি। এই পতঙ্গটি একটি দেশ থেকে আরেকটি দেশে যাবার জন্য তিন থেকে চার প্রজন্ম অতিবাহিত করে।

মিরাপোসা মনারকা, ছবি ফ্লিকার ব্যবহারকারী গুস্তাভো (লু৭ফ্রার্ব), এবং এটি ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে ব্যবহার করা হয়েছে।

মিরাপোসা মনারকা, ছবি ফ্লিকার ব্যবহারকারী গুস্তাভো (লু৭ফ্রার্ব), এবং এটি ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের অধীনে ব্যবহার করা হয়েছে।

সৌন্দর্যের বাইরেও মনার্ক প্রজাপতি তার প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং লম্বা সময় টিকে থাকার কারণে বিখ্যাত। যেখানে অন্য অনেক প্রজাপতির গড় আয়ু ২৪ দিন, সেখানে মনার্ক প্রজাপতি ৯ মাস পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। এর মানে তারা সাধারণ প্রজাপতির চেয়ে ১২ গুণ বেশি আয়ুর অধিকারী।

প্রতি বছর অক্টোবর মাসের শেষে লক্ষ লক্ষ মনার্ক প্রজাপতি মেক্সিকোর মিকাওকান বনে এসে হাজির হয়। তবে এর জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রে ও কানাডার উত্তরাংশ থেকে প্রায় ৪০০০ কিলোমিটার পাড়ি দেয়। বনের ভেতরে আসা হাজার হাজার প্রজাপতিকে দেখতে এখানকার বাসিন্দা এবং পর্যটকরাও এখানে এসে হাজির হয়। এই এলাকাটি সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত।

এটি এক অসাধারণ যাত্রা, ভীষণ ক্লান্তিকর, কিন্তু যখন আপনি চূড়ায় উঠবেন এবং দেখবেন লক্ষ লক্ষ প্রজাপতি আপনার চারপাশে উড়ছে, তখন ব্যাপারটি ঠিক বর্ণনা করতে পারবেন না। শিশুরা তখন বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়ে, এবং প্রাপ্ত বয়স্করা তখন নতুন করে বিস্মিত হবার ক্ষমতা অর্জন করে, প্রকৃতি যে জ্ঞানী এতে কোন সন্দেহ নেই।

অনেক প্রাচীন সময় থেকে এই ঘটনা ঘটে আসছে। এই প্রজাপতি সেই সময়ে মানুষদের মনেও যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছিল তারও স্বাক্ষ্য রয়েছে। এমনকি মেক্সিকোর প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা, ভাস্কর্য এবং ছবিতে মনার্ক প্রজাপতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে বেদনাদায়ক বিষয় হচ্ছে বন উজাড় করে ফেলা এবং ভয়াবহ পরিবেশ পরিবর্তনের কারণে প্রজাপতিগুলোর পক্ষে এখন টিকে থাকাই কঠিন হয়ে এসেছে। এল ইউনির্ভাসাল সংবাদপত্রের সংবাদ অনুসারে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে রা স্যাংঙ্কচুয়ারিও পিয়েড্রা হেরাডা [স্প্যানিশ ভাষায়] নামের জাতীয় সংরক্ষিত এক এলাকায় ৩০ শতাংশ প্রজাপতি মারা যায়। সেই অঞ্চলে তৈরি হওয়া এক প্রবল শীতে এ সব প্রজাপতি মারা যায়।

তবে এখনো প্রজাপতিদের এই অভিবাসন যাত্রা চালু রয়েছে। মেক্সিকোর অন্যতম এক উৎসবের নাম হচ্ছে ডিয়া ডে মুয়েরটস (মৃত্যুর দিন) । এই দিনটিকে মেক্সিকোর বাসিন্দারা তাদের মৃত প্রিয় মানুষদের স্মরণ করে। এটি স্থানীয় আদিবাসীদের এক সংস্কৃতি। মাজাহুয়া জনগোষ্ঠী এই উৎসব পালন করে। তারা বিশ্বাস করে প্রতিবছর অক্টোবরে আসা মনার্ক প্রজাপতি তাদের জনগোষ্ঠীর মৃত মানুষের আত্মার প্রতিনিধিত্ব করে। একই সাথে তারা বিশ্বাস করে এই সমস্ত প্রজাপতি ঈশ্বরের কাছ থেকে পৃথিবীর মানুষের জন্য এক বাণী বয়ে আনে।

এটাকে আমার দেশে যাদুকরী এক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ ঐতিহ্যগতভাবে যে দিনটিকে মৃত্যুর দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই দিনে তারা এসে হাজির হয়। তাদের সাথে মৃত মানুষদের আত্মাও এসে হাজির হয়। এখন আপনারা বুঝতে পারছেন কেন আমি প্রকৃতির এই বিস্ময়কর ঘটনার প্রতি এত মুগ্ধ?

মেক্সিকোর আকাশে উড়ছে হাজার হাজার প্রজাপতি।

মেক্সিকোর আকাশে উড়ছে হাজার হাজার প্রজাপতি।
Saturday 13 November 2010 09:55 PM



একটুখানি উষ্নতার সন্ধানে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে প্রতি বছরের মত এবারও মেক্সিকোতে জড় হয়েছে অসংখ্য প্রজাপ্রতি। মেক্সিকোর আকাশে উড়ছে এসব রঙ্গিন প্রজাপতি। এই বর্নিল দৃশ্য দেখার জন্য ভীড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ ব্যস্ত ছবি তুলতে। জানাযায়, কানাডা আর যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলে এসব প্রজাপতি বাস করে। সাধারনত শীত মৌসুম শুরু হবার পর পর ই এই প্রজাপতিগুলো উষ্নতার সন্ধানে মেক্সিকোতে পাড়ি জমায়। এক প্রাণী বিজ্ঞানী বলেন যে, প্রজাপতিগুলো এখানে ৫ মাস থাকবে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে যখন শরৎকাল আসবে তখন প্রজাপতিগুলো আবার তাদের পুরানো বাসস্থানে ফিরে যাবে। ঘূর্নিঝড়ে বিদ্ধস্ত হয়েছিল মেক্সিকোর সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তাই এবার প্রজাপতিগুলো বনাঞ্চল সহ জড় হয়েছে উন্মুক্ত জায়াগায়। যা তাদের স্বাভাবিকতায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে, আসন্য বর্ষা মৌসুমে বনাঞ্চল আবার সবুজ শ্যামলীমায় ভরে উঠবে। প্রজাপতিগুলো বংশবিস্তার করে যথা সময়ে পাড়ি জমাবে তাদের স্থায়ী ঠিকানায়। স্থায়ী জনগন জানান তারা মুক্ত আকাশে উড়ন্ত প্রজাপতির দৃশ্য খুবই উপভোগ করছেন।

চট্টগ্রামে নির্মীয়মান দেশের প্রথম 'ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার'

চট্টগ্রামে নির্মীয়মান দেশের প্রথম 'ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার'

০০চট্টগ্রাম অফিস , ডিসেম্বর ৩১, ২০১০

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে দেশের প্রথম বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র (ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার)। প্রকল্পের প্রথম পর্বের কাজ শেষ পর্যায়ে। একুশতলা ভবনের ৯মতলার কাজ শেষ হতে চলেছে। যথাসময়েই শেষ হবে এই কেন্দ্রের প্রথম পর্বের নির্মাণ কাজ।

দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের একই ছাদের নিচে সমাবেশ ঘটিয়ে দেশের বিকাশমান অর্থনীতি ও ক্রমবর্ধমান জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম চেম্বার নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করছে এই বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র।

চেম্বারের নেতারা আশা করছেন ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আঞ্চলিক ও বিশ্ববাণিজ্যে সফল অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাণিজ্যটি কেন্দ্র এই অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে এক নব দিগন্তের সূচনা করবে।

দেশের মহাবন্দর নগরী চট্টগ্রামকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রিজিওনাল বিজনেস হিসাবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এই প্রকল্প বৈশ্বিক বাণিজ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের ইমেজকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও তারা মনে করেন।

ইতোমধ্যে এ বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্র নিউইয়র্ক ভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। শুরু হয়েছে স্পেস বরাদ্দ ও বিপণন কার্যক্রম ।

কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এএসএম নাসিরউদ্দিন চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, ৯ম তলার কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে নয়তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। এই পর্বের কাজ পুরোপুরি শেষ হতে আরও দুই বছর সময় লাগবে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম সুউচ্চ এ ভবনটিতে থাকছে চার তারকা হোটেল, আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশান হল, কনফারেন্স সেন্টার, স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র, অত্যাধুনিক সুবিধাসম্বলিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ক্লাব, কার পার্কিংয়ের জন্য তিনটি বেজমেন্ট, মিডিয়া ও ভাষা সেন্টার, আইটি জোন, শপিং মল, অফিস বস্নক, দেশী-বিদেশী ব্যাংক, বীমা বস্নক, ফুড কোট, সুইমিংপুল, হেলিপ্যাডসহ অত্যাধুনিক সকল সুযোগ- সুবিধা।

আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ৩.৭৪৪ বিঘা জমিতে ১৪১.৭৩ কোটি টাকায় এই কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০০৬ সালে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের তদারকিতে একুশতলা দৃষ্টিনন্দন এই ভবনের নকশা করেছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কনকর্ড আর্কিটেক্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।
Daily Ittefaq